অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন সাইবার সিকিউরিটি এনালিস্ট ও এডভাইজার ইঞ্জিনিয়ার খুরশিদ সাব্বির ও সার্বিক তত্তাবধানে ছিলেন এম্পায়ার হোম হেলথ সার্ভিসের স্বত্তাধিকারী স্যাম রিয়া।
দুপর্বের অনুষ্টানে প্রথমে দোয়া পরিচালনা করেন খুরশিদ সাব্বির। তারপর অতিথিদের জন্য নানা প্রকারের ইফতারের আয়োজন করে এম্পায়ার হোম হেলথ সার্ভিস এবং এর কর্ণধার স্যাম রিয়া ও তাবাস্সুম রহমান, সুরাইয়াস কিচেনের স্বত্তাধিকারী নাজনিন সাব্বির ও হাসান চৌধুরী।
দ্বিতীয় পর্বে বর্তমান সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সিনেটর সাদ্দাম সেলিম আগামী প্রজন্মকে বেশী বেশী স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহনের আহবান জানান। এতে ইউএস-বাংলাদেশ এডভোকেচি কাউন্সিল বিশেষ ভুমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি অভিমত প্রদান করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে মনে হয়। বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিষয়টা ব্যাপক প্রচার হচ্ছে, শুনেছি এ বিষয়ে একটি কংগ্রেশনাল শুণানীর ও প্রস্ততি চলছে, অথচ আমি বিভিন্ন অথেনটিক মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি বর্তমান সময়ে হিন্দু ও অন্যন্য ধর্মীয় সম্প্রদায় খুবই ভালো আছে। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে ডেমোক্রেটিক ফোরামে আলোচনা করবেন বলে জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ডঃ গোলাম মাতবর বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুর্বের যেকোন সরকারের চেয়ে ভাল অবস্থানে আছে। আমাদের দেশে কাউকে আমরা হিন্দু মুসলিম বলে বিভাজন করতে পারিনা। আমরা সবাই বাংলাদেশী। এখানে একক কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নাম নেওয়া মানে তাদের ছোট করা। তিনি এ সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে ৪০ টাকায় পেয়াজ পাওয়া যায়। পুর্বের সরকারের সহযোগিরা বিদেশে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি ইউএস-বাংলাদেশ এডভোকেচি কাউন্সিলকে যথার্থ এডভোকেচির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে এসকল যড়যন্ত্রের জবাব প্রদানের আহবান জানান।
ডঃ সাইফুর রহমান বলেন, অতীত সরকারের অবৈধ কালো টাকার দৌরাত্ম্য এখনো কমেনি। এখানে বসে কিছু লোক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এদের প্রতিহত করতে হবে। বর্তমান ইউনুস সরকার, গত সাত মাসে যা করেছে রাজনৈতিক সরকারগুলি ৭ বছরেও তা করতে সক্ষম হয়নি। কেবল জিনিসপত্রের দাম কমেনি,পুর্বের সরকারের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তসরুফের পরেও রিজার্ভ ঠিক রাখা, বৈদেশিক ঋণ হালনাগাদ করা, অর্থনীতির একটা ভারসাম্য আনয়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি ইউএস- বাংলাদেশ এডভোকেচি কাউন্সিলকে বর্তমান সরকারকে সহায়তা প্রদানের আহবান জানান।
মেজর (অবঃ) রুহুল চৌধুরী বলেন, একটা গ্রুপ খালি নির্বাচন নির্বাচন করে গলা শুকিয়ে ফেলছে। পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা বাংলাদেশে সেনাশাসন আসছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে, জঙ্গীবাদের উত্থান হচ্ছে ইত্যাদি বলে অপপ্রচার করছে। ইনশায়াল্লাহ এসকল অপপ্রচারের বিরদ্ধে ঔক্যবন্ধ ভাবে ইউবেক কাজ করবে।
মেজর (অবঃ) মনজুরুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের ভালো কাজগুলি কেউ তুলে ধরেনা। তাছাড়া এ সরকারের মধ্যেও ভারতীয় দালালরা ঢুকে পড়েছে। তিনি ঐক্যবব্ধভাবে এদের মোকাবেলা করার আহবান জানান।

ডাঃ মাকসুমুল হাকিম বলেন, বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ কিছুতে মেনে নেয়া হবেনা। পতিত স্বৈচারারের দোশরদের আমরা কঠোরভাবে মোকাবেলা করবো।
মেজ (অবঃ) সাফায়াত আহমেদ বলেন, আমাদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে। শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। তাকে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সামছুদ্দীন মাহমুদ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইউএস-বাংলাদেশ এডভোকেচি কাউন্সিল(ইউবেক) গঠিত হয়েছে এই ভারতীয় আধিপত্যবাদ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার, পতিত স্বৈরাচারের দোশরদের বিভিন্ন অপপ্রচার রোধ করার জন্য এবং যেকোন গনতান্ত্রিক সরকারকে সহায়তা করার জন্য। এই এডভোচি কাউন্সিলের মাধ্যমে ইউএস সরকারের বিভিন্ন মহলে বাংলাদেশের বর্তমান সঠিক অবস্থা গুলি তুলে ধরা হবে। সে সাথে বর্তমানে হিন্দু নির্যাতনের ধুয়া তুলে আমাদের হিন্দু ভাইদের ছোট করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশী। তিনি জানান শ্রীঘ্রই ইউএস-বাংলাদেশ এডভোকেচি কাউন্সিল(ইউবেক) সকল মহলকে একত্রিত করে এর পুর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করবে।